Posts
সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল : মলয় রায়চৌধুরীর রাজনৈতিক কবিতা
- Get link
- X
- Other Apps
সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল : মলয় রায়চৌধুরীর রাজনৈতিক কবিতা মলয় দা, মলয় রায়চৌধুরী এক অদ্ভূত মানুষ। ৮২ বয়সেও ২৮ বছরের তরুণ কবিদের মতো তারুণ্য লালন করেন। আমি তাঁর এক সাক্ষাৎকার নিতে গিয়ে তার জবাবে আরো তা টের পেয়েছি। তাঁর সাথে আমার দেখা হয়। বাংলাদেশে কবিদের দৌঁড় কলিকাতা পর্যন্ত। আমার মতো সাধারণ কবির পক্ষে কি স্বর্গীয় দিল্লি যাওয়া তো কল্পনার মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমার কবিতায় মলয় দা ঢুকে গেছেন, আবার মলয় দা আমাকে নিয়েও কবিতা লিখেছেন, ফেইসবুক লাইভে আমার কবিতা পাঠ করেছেন। কি সব অদ্ভূত কাণ্ডই না করেন মলয় দা। গুণ দা'র মতো তাঁর পাগলামির শেষ নাই। শাশুড়িকে নিয়ে প্রেমের কবিতা লিখেন। প্রেমিকাকে বলনে- ‘মাথা কেটে পাঠাচ্ছি, যত্ন করে রেখো’। আমি বলেছিলাম, মাথা নাকি নুনু? তিনি যে জবাব দিয়েছিলেন, তাতেও টাশকি খেয়েছি। ‘১৯৬০-এর দশকের হাংরি আন্দোলন হাংরিয়ালিজম— তথা বাংলা সাহিত্যে প্রতিষ্ঠানবিরোধিতার জনক ১৯৬০-এর দশক থেকেই ব্যাপক পাঠকগোষ্ঠীর দৃষ্টি আর্কষণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। আধুনিক বাংলা কবিতার ইতিহাসে তিনি বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব। গতানুগতিক চিন্তাধারা সচেতনভাবে বর্জনের মধ্য দিয়ে তিনি বাংলা সাহিত্যে উত্তর আধুনিকতাবা...
ব্লাড লিরিক
- Get link
- X
- Other Apps
ব্লাড লিরিক অবন্তিকা, তোর খোঁজে মাঝরাতে বাড়ি সার্চ হল এর মতো ওর মতো তার মতো কারো মতো নয় যেন এমন যেন অমন যেন তেমন নয় কী করেছি কবিতার জন্য আগ্নেয়গিরিতে নেমে ? একি একি ! কী বেরোচ্ছে বাড়ি সার্চ করে কবিতায় ? বাবার আলমারি ভেঙে ব্রোমাইড সেপিয়া খুকিরা কবিতায় । হাতুড়ির বাড়ি মেরে মায়ের তোরঙ্গে ছেঁড়ে বিয়ের সুগন্ধি বেনারসি কবিতায় । সিজার লিস্টে শ্বাস নথি করা আছে কবিতায় । কী বেরোলো ? কী বেরোলো ? দেখান দেখান কবিতায় । ছি ছি ছি ছি, যুবতীর আধচাটা যুবা ! মরো তুমি মরো কবিতায় । সমুদ্রের নীলগোছা ঢেউ চিরে হাড়মাস চেবাচ্ছে হাঙর কবিতায় । পাকানো ক্ষুদ্রান্ত্র খুলে এবি নেগেটিভ সূর্য কবিতায় । অস্হিরতা ধরে রাখা পদচিহ্ণে দমবন্ধ গতি কবিতায় । লকআপে পেচ্ছাপে ভাসছে কচি বেশ্যাদেখা আলো কবিতায় । বোলতার কাঁটা পায়ে সরিষা ফুলের বীর্যরেণু কবিতায় । নুনে সাদা ফাটা মাঠে মেটেল ল্যাঙোটে ভুখা চাষি কবিতায় । লাশভূক শকুনের পচারক্ত কিংখাবি গলার পালকে কবিতায় । কুঁদুলে গুমোট ভিড়ে চটা-ওঠা ভ্যাপসা শতক কবিতায় । হাড়িকাঠে ধী-সত্তার কালো কালো মড়া চিৎকার কবিতায় । মরো তুমি মরো তুমি মরো তুমি মরলে না কেন কবিতায় । মুখে আগুন মুখে আগুন মুখে আগ...
আমার দেয়াল
- Get link
- X
- Other Apps
আমার দেয়াল গগাঁ, সেজানে, রোথকো, পোলক, পিকাসো, ভ্যানগঘ, কুনিং, গুস্তাভ ক্লিন্ট, ফ্রান্সিস বেকন হাঁ করে দাঁড়িয়ে বহুক্ষণ দেখেছি ইউরোপের আর্ট গ্যালারিতে যতোবার আর্ট গ্যালারিতে গেছি নিজেকে বড়োই ক্ষুদ্র ফালতু ছোটোলোক বলে গালমন্দ পেড়েছি বাংলায় । আশেপাশে দর্শকেরা ভেবেছি বুঝি বিস্ময় প্রকাশ করছি, মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের ছবিদের রহস্য জেনে । টাকাকড়ি বাদ দাও — একরুমের দমবন্ধ ফ্ল্যাটে আমার তো নিজের দেয়ালও নেই পাড়ার শিল্পীর দানে পাওয়া পেইনটিঙ টাঙাবার; আমার মতোই ছাতাপড়া পাপড়ি-খসা রাস্তার ডিজেল উড়ে বাসি নোংরা ঝুলকালি জমিয়ে রেখেছে বুক ভরে বিল্ডারের ডিসটেমপারে আমার দেয়াল ।
রূপকথার একশো বছর
- Get link
- X
- Other Apps
রূপকথার একশো বছর ( বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা ) কেউ কি ভেবেছিল কখনও ‘জয় বাংলা’ ধ্বনি দিয়ে বাংলাভাষী একজন নেমে আসবে রূপকথা থেকে ? অখ্যাত কবির রোমকূপে হর্ষের ঝড় তুলে আত্মাভিমানকে তার অনন্তকালের আলো দেবে ! হ্যাঁ, মুজিব বঙ্গবন্ধু অখ্যাত বাংলাভাষী আমি ও আমার পিতা, আমার বংশধরেরা, চিরকাল বেঁচে থাকবে আপনার ধ্বনি-দেয়া মর্ত্যলোকের অভূতপূর্ব বিস্ময়ে । কেবল আমার বাংশধরেরা নয়, আমার মতন আরো কোটি-কোটি ভাষাসন্তানেরা বেঁচে থাকবে আপনার অমরত্বে, পৃথিবীর যেখানে থাকুক তারা, তাদের প্রতিটি উচ্চারণে আপনার নায়কোচিত আত্মবলিদান সেইসব যুবকের হাতে যারা নিজেরই মায়ের ভাষা বর্জনীয় ভেবে রূপকথা-বর্ণিত রাক্ষসপুত্রের ভূমিকায় দানবের দেয়া স্বর্ণের বিনিময়ে ভাবলো আপনাকে ও আপনার বাড়ির লোকেদের গুলিবিদ্ধ করলেই মৌন হয়ে যাবে জয়ধ্বনি । হয়নি যে তা তো তারা এবং তাদের দোসরেরা জীবৎকালেই জেনে গেছে । বাংলাভাষা তো ঘাসের মতন কখনও শুকায় না ; জঙ্গলে আগুন লেগে অলিভ-পোশাক-পরা গাছ ছাই হয়, কিন্তু সে-আগুন নিভে গেলে ঘাসেরা আবার আসে ফিরে-- যেমনই সে ঘাসেরা হোক, ছোটো-বড়ো-গরিব-বৈভবশালী, দ্রুত ছোটে তারা জয়ধ্বনি দিতে-দিতে পৃথিবীর ভিজে ...
তীব্র প্রতিবাদ
- Get link
- X
- Other Apps
“তীব্র প্রতিবাদ” জরুরি অবস্হা চলছে, ১৯৭৬, প্রচণ্ড শীত বাঁদুরে টুপি, মাফলার, ডবল সোয়েটারে ঢেকে রিকশায় বসে, মুঙ্গের শহরের রাস্তায়, কাজে যাচ্ছি-- দেখি, কোতোয়ালির সামনের কালো কাঠের বরগায় উল্টো টাঙানো ঝুলছে পায়ে দড়ি বাঁধা এগারোটা উলঙ্গ পুরুষ, বুড়ো প্রৌঢ় তামাটে যুবক রিকশাঅলার মতে ‘এরা এই জেলার বাহুবলি’ সবাই ঝিমিয়ে সিঁটিয়ে আছে হাড্ডিকাঁপানো ঠাণ্ডায় ; এক প্রৌঢ়ের লিঙ্গ কিন্তু খাড়া, ঠিক যেন বেয়নেট– রিকশাঅলার মতে, ‘ওরটা জরুরি অবস্হার খিলাফে তীব্র প্রতিবাদ’
মনসান্টো কোম্পানির বীজ
- Get link
- X
- Other Apps
মনসান্টো কোম্পানির বীজ লাঙলের ফলা লেগে মাটির তলা থেকে বেরিয়ে এলেন তিনি বেরিয়ে এলেন বলা ঠিক নয়, তিনি তো চিৎ হয়ে চোখ বুজে শাড়ি-শায়া-ব্লাউজ ছাড়াই শুয়ে । হারাধন চাষি তো অবাক সেই কবে সীতা লাঙলের ফলা লেগে জন্মেছিলেন, তারপর অগ্নিপরীক্ষা দিয়ে দুই-ফাঁক জমির ভেতরে গেলেন রামকে টাটা করে এখন আলুর ক্ষেতে দেখা দিচ্ছেন কেন, গোলমাল ঘটে গেছে নাকি অযোধ্যায়, দণ্ডকারণ্যে, বাল্মীকির ছিটেবেড়া-দেয়া আশ্রমে ! এটা তো পশ্চিমবাংলার গণ্ডগ্রাম, শহরে যাবার রাস্তা তৈরি হয়নি বর্ষায় কিংবা গ্রীষ্মে আত্মীয়স্বজনেরা এমুখো হয় না, ভোটবাবু আসে বাকসো-প্যাঁটরা নিয়ে পুলিশের সাথে, শীতের সময়ে । চাষা ঝুঁকে মুখ দেখে বুঝতে পারলো এই সীতা তো গ্রামেরই ফেলু সাঁতরার মেয়ে, তিন সপ্তাহ থেকে পাওয়া যাচ্ছিলনাকো-- হারাধন ঝুঁকে চুমু খেলো ঠোঁটে ফেলু সাঁতরার মেয়ে নতুন সীতাকে মাটি দিয়ে ঢেকে আর, বুনে দিলো মনসান্টো কোম্পানির বীজ…